Skip to main content

Posts

এই অবেলায় - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর গোলাপ ফুল নিয়ে প্রেমের কবিতা

ওই যে গোলাপ দুলছে, ও কি ফুল না আগুন, ঠিক বুঝি না। এগিয়ে গিয়ে পিছিয়ে আসি, ভাবতে থাকি ধরব কি না। ভাবতে থাকি, ঠিক কতবার ফুলের বনে ভুল দেখেছি। ভরদুপুরে গোলাপ ভেবে অগ্নিশিখায় হাত রেখেছি। গোলাপ, তুমি গোলাপ তো ঠিক? হও যদি সেই আগুন, তবে এই অবেলায় ফুলের খেলায় ফের যে আমায় পুড়তে হবে।  ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেন্ট করবেন 

তুমি নেই - মমিনুল মউজদীন এর একটি ছোট প্রেমের কবিতা

তোমার জন্যে ছিলো আমার যাওয়া পৌঁছে দেখি সবাই আছে তুমিই শুধু হাওয়া চারিদিকে বৃষ্টিবাদল বুকের ভিতর ঢেউ এগিয়ে এসে ভেজা হাতে  হাত ধরেনি কেউ । মন তো খারাপ হতেই পারে কোথাও তুমি নেই তুমি তখন নিজের ভিতর  আছো আনন্দেই ।।  ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেন্ট করবেন 

তুই কি আমার দুঃখ হবি - আনিসুল হক এর দুঃখের প্রেমের কবিতা

তুই কি আমার দুঃখ হবি? এই আমি এক উড়নচণ্ডী আউলা বাউল রুখো চুলে পথের ধুলো চোখের নীচে কালো ছায়া। সেইখানে তুই রাত বিরেতে স্পর্শ দিবি। তুই কি আমার দুঃখ হবি? তুই কি আমার শুষ্ক চোখে অশ্রু হবি? মধ্যরাতে বেজে ওঠা টেলিফোনের ধ্বনি হবি? তুই কি আমার খাঁ খাঁ দুপুর নির্জনতা ভেঙে দিয়ে ডাকপিয়নের নিষ্ঠ হাতে ক্রমাগত নড়তে থাকা দরজাময় কড়া হবি? একটি নীলাভ এনভেলাপে পুড়ে রাখা কেমন যেন বিষাদ হবি? তুই কি আমার শুন্য বুকে দীর্ঘশ্বাসের বকুল হবি? নরম হাতের ছোঁয়া হবি? একটুখানি কষ্ট দিবি? প্রতীক্ষার এই দীর্ঘ হলুদ বিকেল বেলায় কথা দিয়েও না রাখা এক কথা হবি? একটুখানি কষ্ট দিবি? তুই কি একা আমার হবি? তুই কি আমার একান্ত এক দুঃখ হবি?  ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেন্ট করবেন 

চাঁদ ডুবলাে বুকের ভিতর - মোহাম্মদ মুজিব আলম

একলা উঠোন নৃত্যে কাঁপায় তােমার নগ্ন পা তুমুল বৃষ্টি ডাকলে আমায় কেমনে বলি না। বুকের ভিতর ঝড়-তুফানে তুললাে মাতম ঢেউ সেই উঠোনে মনের কবর খুঁড়লাে যেন কেউ। আমায় দেখে ঘঘামটা তুলে লুকাও যখন মুখ চাঁদ ডুবলাে বুকের ভিতর ডুবলাে সকল সুখ। মায়ার জালে বাঁধলে শুধু ধুলায় নামলে না গহীন জলে ডুবিয়ে দিয়ে একটু থামলে না।  ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেন্ট করবেন 

তুমিই শুধু তুমি - সৈয়দ শামসুল হকের প্রেমের কবিতা

তোমার দেহে লতিয়ে ওঠা ঘন সবুজ শাড়ি। কপালে ওই টকটকে লাল টিপ। আমি কি আর তোমাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারি? তুমি আমার পতাকা, আমার কৃষির বদ্বীপ। করতলের স্বপ্ন-আমন ধানের গন্ধ তুমি তুমি আমার চিত্রকলার তুলি। পদ্য লেখার ছন্দ তুমি−সকল শব্দভুমি। সন্তানের মুখে প্রথম বুলি। বুকে তোমার দুধের নদী সংখ্যা তেরো শত। পাহাড় থেকে সমতলে যে নামি− নতুন চরের মতো তোমার চিবুক জাগ্রত− তুমি আমার, প্রেমে তোমার আমি। এমন তুমি রেখেছ ঘিরে−এমন করে সব− যেদিকে যাই−তুমিই শুধু−তুমি! অন্ধকারেও নিঃশ্বাসে পাই তোমার অনুভব, ভোরের প্রথম আলোতেও তো তুমি!  ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেন্ট করবেন 

যৌবন চাঞ্চল্য - যতীন্দ্রমোহন বাগচী | যৌবন নিয়ে কবিতা

ভুটিয়া যুবতি চলে পথ; আকাশ কালিমামাখা কুয়াশায় দিক ঢাকা। চারিধারে কেবলই পর্বত; যুবতী একেলা চলে পথ। এদিক-ওদিক চায় গুনগুনি গান গায়, কভু বা চমকি চায় ফিরে; গতিতে ঝরে আনন্দ উথলে নৃত্যের ছন্দ আঁকাবাঁকা গিরিপথ ঘিরে। ভুটিয়া যুবতি চলে পথ। টসটসে রসে ভরপুর-- আপেলের মত মুখ আপেলের মত বুক পরিপূর্ণ প্রবল প্রচুর; যৌবনের রসে ভরপুর। মেঘ ডাকে কড়-কড় বুঝিবা আসিবে ঝড়, একটু নাহিকো ডর তাতে; উঘারি বুকের বাস, পুরায় বিচিত্র আশ উরস পরশি নিজ হাতে! অজানা ব্যাথায় সুমধুর-- সেথা বুঝি করে গুরুগুরু! যুবতি একেলা পথ চলে; পাশের পলাশ-বনে কেন চায় অকারণে? আবেশে চরণ দুটি টলে-- পায়ে-পায়ে বাধিয়া উপলে! আপনার মনে যায় আপনার মনে গায়, তবু কেন আনপানে টান? করিতে রসের সৃষ্টি চাই কি দশের দৃষ্টি? --স্বরূপ জানেন ভগবান! সহজে নাচিয়া যেবা চলে একাকিনী ঘন বনতলে-- জানি নাকো তারো কী ব্যাথায় আঁখিজলে কাজল ভিজায়!  ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেন্ট করবেন 

দরজা - প্রবুদ্ধসুন্দর কর | দুঃখের প্রেমের কবিতা

যে তোমাকে ছেড়ে যেতে চায় তাকে যেতে দাও আটকে রেখো না। একটি কথাও না বলে তার ব্রিফকেস গোছাতে সাহায্য করো। প্রেসার বা থায়রয়েডের ওষুধ সে যেন ভুল করে ফেলে না যায়। শূন্যতা ছাড়া সে যেন ছেড়ে না যায় আর কোনো স্মৃতি। অশ্রুগ্রন্থি থেকে যেন বেরিয়ে না আসে সূচ্যগ্র তরল ঘুণাক্ষরেও তোমার মুখে যেন জলবসন্তের মতো আর্তি আর হাহাকার ফুটে না ওঠে। শুধু এগিয়ে দেওয়ার পথে নীচু স্বরে বোলো দরজা ভেজানো থাকবে টোকা দেওয়ার দরকার নেই। আলতো ঠেলে দিলেই কপাট খুলে যাবে।  ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেন্ট করবেন