সার্থক রজনী - জসীম উদ্দীন । স্বামী স্ত্রীর প্রেমের কবিতা Skip to main content

সার্থক রজনী - জসীম উদ্দীন । স্বামী স্ত্রীর প্রেমের কবিতা

sharthok-rojoni-jasim-uddin-shami-strir-premer-kobita

আজকে রাতরে যাইতে দেব না, শুধু শুধু কথা কয়ে,
তারা ফুটাইব, হাসি ছড়াইব আঁধারের লোকালয়ে।
গোলাপী ঠোঁটের কৌটায় করে রাখিব রাতেরে ভরি,
তোমার দু-খানি রঙিন বাহুর বাঁধনে তাহারে ধরি।
আজকের রাত শুধু আজকের-যত ভাল ভাল কথা,
কয়ে আর কয়ে ফুটাইব তাতে যত স্বপনের লতা!

আজকের রাত, মেরু কুহেলির এক ফোঁটা সরু চাঁদ,
আজের রাত-শত নিরাশার একটি পূরিত সাধ।
আজের রাতেরে জড়ায়ে রাখিব তোমার সোনার গায়,
আজকের রাতেরে দোলায় দোলাব তবনিশ্বাস বায়।
আজকের রাতে কথা কব আমি-যত ভাল ভাল কথা,
কথার ফুলেতে সাজাইয়া দেব তোমার দেহের লতা!
কথায় কথায় উড়ে যাব আমি, ছড়াইয়া যাব আর,
মরে যাব আমি নিঃশেষ হয়ে বিস্মৃতি পারাবার।

দিবসে যা হয় হইবে তখন, রাতের পেয়ালা ভরি,
দেহ-মদিরার সোনালী পানীয় উথলি যাইবে পড়ি।
আজকের রাতে বল, ভালবাসি বল বল তুমি মোর,
না হয় ভুলিও যখন হইবে তোমার রজনী ভোর-
আমার রজনী ভোর হবেনাক, এ রাত জহর-জাম,
পান করে আমি শেষ-নাহি-হওয়া নিদ্রা যে লভিলাম।

 ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেন্ট করবেন 

জসীম উদ্দীনের সব প্রেমের কবিতা 👉 লিংক

Comments

Popular posts from this blog

কাশফুলের কাব্য - নির্মলেন্দু গুণ | কাশফুল নিয়ে প্রেমের কবিতা

ভেবেছিলাম প্রথম যেদিন ফুটবে তোমায় দেখব, তোমার পুষ্প বনের গাঁথা মনের মতো লেখব। তখন কালো কাজল মেঘ তো ব্যস্ত ছিল ছুটতে, ভেবেছিলাম আরো ক’দিন যাবে তোমার ফুটতে। সবে তো এই বর্ষা গেল শরৎ এলো মাত্র,  এরই মধ্যে শুভ্র কাশে ভরলো তোমার গাত্র। ক্ষেতের আলে, নদীর কূলে পুকুরের ঐ পাড়টায়। হঠাৎ দেখি কাশ ফুটেছে বাঁশবনের ঐ ধারটায়! আকাশ থেকে মুখ নামিয়ে মাটির দিকে নুয়ে,  দেখি ভোরের বাতাসে কাশ দুলছে মাটি ছুঁয়ে। কিন্তু কখন ফুটেছে তা  কেউ পারে না বলতে, সবাই শুধু থমকে দাঁড়ায় গাঁয়ের পথে চলতে। পুচ্ছ তোলা পাখির মতো কাশবনে এক কন্যে, তুলছে কাশের ময়ূর চূড়া কালো খোঁপার জন্যে। যেন শরত রাণী কাশের বোরখাখানি খুলে, কাশবনের ঐ আড়াল থেকে নাচছে দুলে দুলে। প্রথম কবে ফুটেছে কাশ সেই শুধু তা জানে, তাই তো সে তা সবার আগে খোঁপায় বেঁধে আনে। ইচ্ছে করে ডেকে বলিঃ ‘ওগো কাশের মেয়ে, আজকে আমার চোখ জুড়ালো তোমার দেখা পেয়ে।’ ‘তোমার হাতে বন্দী আমার ভালোবাসার কাশ, তাই তো আমি এই শরতে তোমার ক্রতদাস।’ ভালোবাসার কাব্য শুনে কাশ ঝরেছে যাই,  দেখি আমার শরত-রাণী কাশবনে আর নেই।  ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেন্ট করবেন  নির্মলেন্দু গুণের সব প্রেমের কবিতা 👉 লিংক

অপেক্ষা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রোমান্টিক প্রেমের কবিতা

সকল বেলা কাটিয়া গেল বিকাল নাহি যায়। দিনের শেষে শ্রান্তছবি কিছুতে যেতে চায় না রবি, চাহিয়া থাকে ধরণী-পানে, বিদায় নাহি চায়। মেঘেতে দিন জড়ায়ে থাকে, মিলায়ে থাকে মাঠে— পড়িয়া থাকে তরুর শিরে, কাঁপিতে থাকে নদীর নীরে, দাঁড়ায়ে থেকে দীর্ঘ ছায়া মেলিয়া ঘাটে বাটে। এখনো ঘুঘু ডাকিছে ডালে করুণ একতানে। অলস দুখে দীর্ঘ দিন ছিল সে বসে মিলনহীন, এখনো তার বিরহগাথা বিরাম নাহি মানে। বধূরা দেখো আইল ঘাটে, এল না ছায়া তবু। কলস-ঘায়ে ঊর্মি টুটে, রশ্মিরাশি চূর্ণি উঠে, শ্রান্ত বায়ু প্রান্তনীর চুম্বি যায় কভু। দিবসশেষে বাহিরে এসে সেও কি এতখনে নীলাম্বরে অঙ্গ ঘিরে নেমেছে সেই নিভৃত নীরে, প্রাচীরে-ঘেরা ছায়াতে-ঢাকা বিজন ফুলবনে? স্নিগ্ধ জল মুগ্ধভাবে ধরেছে তনুখানি। মধুর দুটি বাহুর ঘায় অগাধ জল টুটিয়া যায়, গ্রীবার কাছে নাচিয়া উঠি করিছে কানাকানি। কপোলে তার কিরণ প’ড়ে তুলেছে রাঙা করি। মুখের ছায়া পড়িয়া জলে নিজেরে যেন খুঁজিছে ছলে, জলের’পরে ছড়ায়ে পড়ে আঁচল খসি পড়ি। জলের’পরে এলায়ে দিয়ে আপন রূপখানি শরমহীন আরামসুখে হাসিটি ভাসে মধুর মুখে, বনের ছায়া ধরার চোখে দিয়েছে পাতা টানি। সলিলতলে সোপান-’পরে উদাস বেশবাস

তুমি ফিরবে - সমরেশ মজুমদারের প্রেমের কবিতা

তুমি ফিরবে কোন একদিন হয়তো নীলিমায় হারানো কোন এক নিষ্প্রভ বেলায়। নতুবা কোন এক নবীন হেমন্তে, এক নতুন দিনের নির্মল খোলা হাওয়ায়। অথবা কোন এক শ্রাবণের দিনে অহরহ ঝরা ঘন কাল মেঘ বৃষ্টির মুহু মুহু নির্ঝর খেলায়। তুমি ফিরবে কোন এক রাতে পূর্ণিমার ভরা জোছনায়। তুমি ফিরবে জানি বহুদিন পরে হয়তো বা হাজার বছর পরে। কোন এক নিঃস্ব হৃদয়ে, লক্ষ্য প্রাণের ভিড়ে, তুমি ফিরবে। বহুরুপে সেই প্রাণে, অনেক নবীনের ভিড়ে, তোমার আমার গড়া ভালবাসার নীড়ে। কবিতাটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন