যৌবন চাঞ্চল্য - যতীন্দ্রমোহন বাগচী | যৌবন নিয়ে কবিতা Skip to main content

যৌবন চাঞ্চল্য - যতীন্দ্রমোহন বাগচী | যৌবন নিয়ে কবিতা

joubon-chanchollo-jatindramohan-bagchi-joubon-niye-kobita

ভুটিয়া যুবতি চলে পথ;
আকাশ কালিমামাখা কুয়াশায় দিক ঢাকা।
চারিধারে কেবলই পর্বত;
যুবতী একেলা চলে পথ।
এদিক-ওদিক চায় গুনগুনি গান গায়,
কভু বা চমকি চায় ফিরে;
গতিতে ঝরে আনন্দ উথলে নৃত্যের ছন্দ
আঁকাবাঁকা গিরিপথ ঘিরে।
ভুটিয়া যুবতি চলে পথ।

টসটসে রসে ভরপুর--
আপেলের মত মুখ আপেলের মত বুক
পরিপূর্ণ প্রবল প্রচুর;
যৌবনের রসে ভরপুর।
মেঘ ডাকে কড়-কড় বুঝিবা আসিবে ঝড়,
একটু নাহিকো ডর তাতে;
উঘারি বুকের বাস, পুরায় বিচিত্র আশ
উরস পরশি নিজ হাতে!

অজানা ব্যাথায় সুমধুর--
সেথা বুঝি করে গুরুগুরু!
যুবতি একেলা পথ চলে;
পাশের পলাশ-বনে কেন চায় অকারণে?
আবেশে চরণ দুটি টলে--
পায়ে-পায়ে বাধিয়া উপলে!
আপনার মনে যায় আপনার মনে গায়,
তবু কেন আনপানে টান?
করিতে রসের সৃষ্টি চাই কি দশের দৃষ্টি?
--স্বরূপ জানেন ভগবান!

সহজে নাচিয়া যেবা চলে
একাকিনী ঘন বনতলে--
জানি নাকো তারো কী ব্যাথায়
আঁখিজলে কাজল ভিজায়!

 ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেন্ট করবেন 

Comments

Popular posts from this blog

অপেক্ষা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রোমান্টিক প্রেমের কবিতা

সকল বেলা কাটিয়া গেল বিকাল নাহি যায়। দিনের শেষে শ্রান্তছবি কিছুতে যেতে চায় না রবি, চাহিয়া থাকে ধরণী-পানে, বিদায় নাহি চায়। মেঘেতে দিন জড়ায়ে থাকে, মিলায়ে থাকে মাঠে— পড়িয়া থাকে তরুর শিরে, কাঁপিতে থাকে নদীর নীরে, দাঁড়ায়ে থেকে দীর্ঘ ছায়া মেলিয়া ঘাটে বাটে। এখনো ঘুঘু ডাকিছে ডালে করুণ একতানে। অলস দুখে দীর্ঘ দিন ছিল সে বসে মিলনহীন, এখনো তার বিরহগাথা বিরাম নাহি মানে। বধূরা দেখো আইল ঘাটে, এল না ছায়া তবু। কলস-ঘায়ে ঊর্মি টুটে, রশ্মিরাশি চূর্ণি উঠে, শ্রান্ত বায়ু প্রান্তনীর চুম্বি যায় কভু। দিবসশেষে বাহিরে এসে সেও কি এতখনে নীলাম্বরে অঙ্গ ঘিরে নেমেছে সেই নিভৃত নীরে, প্রাচীরে-ঘেরা ছায়াতে-ঢাকা বিজন ফুলবনে? স্নিগ্ধ জল মুগ্ধভাবে ধরেছে তনুখানি। মধুর দুটি বাহুর ঘায় অগাধ জল টুটিয়া যায়, গ্রীবার কাছে নাচিয়া উঠি করিছে কানাকানি। কপোলে তার কিরণ প’ড়ে তুলেছে রাঙা করি। মুখের ছায়া পড়িয়া জলে নিজেরে যেন খুঁজিছে ছলে, জলের’পরে ছড়ায়ে পড়ে আঁচল খসি পড়ি। জলের’পরে এলায়ে দিয়ে আপন রূপখানি শরমহীন আরামসুখে হাসিটি ভাসে মধুর মুখে, বনের ছায়া ধরার চোখে দিয়েছে পাতা টানি। সলিলতলে সোপান-’পরে উদাস বেশবাস

অনুরোধ - জসীমউদ্দীনের প্রেমের কবিতা

তুমি কি আমার গানের সুরের পূবালী বাতাস হবে, তুমি কি আমার মনের বনের বাঁশীটি হইয়া রবে! রাঙা অধরের রামধনুটিরে, ছড়াবে কি তুমি মোর মেঘ-নীড়ে, আমি কি তোমার কবি হব রাণী, তুমি কি কবিতা হবে; তুমি কি আমার মনের বনের বাঁশীটি হইয়া রবে! তুমি কি আমার মালার ফুলের ফিরিবে গন্ধ বয়ে, হাসিবে কি তুমি মোর কপালের চন্দন ফোঁটা হয়ে! তুমি কি আমার নীলাকাশ পরে, ফুটাবে কুসুম সারারাত ভরে, সাঁঝ-সকালের রাঙা মেঘ ধরে অঙ্গে জড়ায়ে লবে; তুমি কি আমার মনের বনের বাঁশীটি হইয়া রবে!  ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেন্ট করবেন  জসীমউদ্দীনের সব প্রেমের কবিতা 👉 লিংক

বর্ষার দিনে - রবীন্দ্রনাথের বৃষ্টি নিয়ে প্রেমের কবিতা

এমন দিনে তারে বলা যায় এমন ঘনঘোর বরিষায় - এমন মেঘস্বরে বাদল-ঝরঝরে তপনহীন ঘন তমসায়।। সে কথা শুনিবে না কেহ আর, নিভৃত নির্জন চারি ধার।  দুজনে মুখোমুখি গভীর দুখে দুখি, আকাশে জল ঝরে অনিবার - জগতে কেহ যেন নাহি আর।। সমাজ সংসার মিছে সব, মিছে এ জীবনের কলরব। কেবল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে হৃদয় দিয়ে হৃদি-অনুভব -  আঁধারে মিশে গেছে আর সব।। বলিতে ব্যথিবে না নিজ কান, চমকি উঠিবে না নিজ প্রাণ। সে কথা আঁখিনীরে মিশিয়া যাবে ধীরে, বাদলবায়ে তার অবসান - সে কথা ছেয়ে দিবে দুটি প্রাণ।। তাহাতে এ জগতে ক্ষতি কার নামাতে পারি যদি মনোভার! শ্রাবণবরিষনে একদা গৃহকোণে দু কথা বলি যদি কাছে তার তাহাতে আসে যাবে কিবা কার।। আছে তো তার পরে বারো মাস - উঠিবে কত কথা, কত হাস।  আসিবে কত লোক, কত-না দুখশোক, সে কথা কোনখানে পাবে নাশ - জগৎ চলে যাবে বারো মাস।। ব্যাকুল বেগে আজি বহে বায়, বিজুলি থেকে থেকে চমকায়। যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেল মনে সে কথা আজি যেন বলা যায় এমন ঘনঘোর বরিষায়।।  ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেন্ট করবেন  রবীন্দ্রনাথের সব প্রেমের কবিতা 👉 লিংক