Skip to main content

তুমিই পারতে শুধু - মহাদেব সাহা

tumei-parte-sudhu-mahadev-saha

কেবল তুমিই পারতে ফোটাতে এই এক গ্রীষ্মে
শতবর্ষী ফুল,
একটি আকাশে সহস্র আকাশ একবিন্দু ভোরের শিশিরে
সাত সমুদ্রের চেয়েও বেশি জল ;
তুমিই পারতে শুধু একটি জীবনে এনে দিতে অনন্ত জীবন।
কেবল তুমিই পারতে পি সি সরকারের মতো
পৃথিবীর তাবৎ ঘড়ির কাঁটা স্তব্ধ করে দিতে,
শীতের অরণ্যে এনে দিতে অপার ফাল্গুন চিরবরফের নদী,
তাতে অথই প্লাবন।
সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে যে মোহনা,
নদী তুমিই পারতে শুধু তার বুকে আনতে জোয়ার,
শুধু তুমিই পারতে আবার আমাকে
চৈত্রের হাওয়ায়
উন্মাতাল করে দিতে,
একবার কাছে এসে মূহুর্তে ঘুচিয়ে দিতে,
লক্ষ কোটি বছরে ব্যবধান
একটি চুম্বনে দিতে শত বছরের পরমায়ু।

 ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেন্ট করবেন 

Comments

You May Read Also

দরজা - প্রবুদ্ধসুন্দর কর | দুঃখের প্রেমের কবিতা

যে তোমাকে ছেড়ে যেতে চায় তাকে যেতে দাও আটকে রেখো না। একটি কথাও না বলে তার ব্রিফকেস গোছাতে সাহায্য করো। প্রেসার বা থায়রয়েডের ওষুধ সে যেন ভুল করে ফেলে না যায়। শূন্যতা ছাড়া সে যেন ছেড়ে না যায় আর কোনো স্মৃতি। অশ্রুগ্রন্থি থেকে যেন বেরিয়ে না আসে সূচ্যগ্র তরল ঘুণাক্ষরেও তোমার মুখে যেন জলবসন্তের মতো আর্তি আর হাহাকার ফুটে না ওঠে। শুধু এগিয়ে দেওয়ার পথে নীচু স্বরে বোলো দরজা ভেজানো থাকবে টোকা দেওয়ার দরকার নেই। আলতো ঠেলে দিলেই কপাট খুলে যাবে।  ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেন্ট করবেন 

অপেক্ষা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রোমান্টিক প্রেমের কবিতা

সকল বেলা কাটিয়া গেল বিকাল নাহি যায়। দিনের শেষে শ্রান্তছবি কিছুতে যেতে চায় না রবি, চাহিয়া থাকে ধরণী-পানে, বিদায় নাহি চায়। মেঘেতে দিন জড়ায়ে থাকে, মিলায়ে থাকে মাঠে— পড়িয়া থাকে তরুর শিরে, কাঁপিতে থাকে নদীর নীরে, দাঁড়ায়ে থেকে দীর্ঘ ছায়া মেলিয়া ঘাটে বাটে। এখনো ঘুঘু ডাকিছে ডালে করুণ একতানে। অলস দুখে দীর্ঘ দিন ছিল সে বসে মিলনহীন, এখনো তার বিরহগাথা বিরাম নাহি মানে। বধূরা দেখো আইল ঘাটে, এল না ছায়া তবু। কলস-ঘায়ে ঊর্মি টুটে, রশ্মিরাশি চূর্ণি উঠে, শ্রান্ত বায়ু প্রান্তনীর চুম্বি যায় কভু। দিবসশেষে বাহিরে এসে সেও কি এতখনে নীলাম্বরে অঙ্গ ঘিরে নেমেছে সেই নিভৃত নীরে, প্রাচীরে-ঘেরা ছায়াতে-ঢাকা বিজন ফুলবনে? স্নিগ্ধ জল মুগ্ধভাবে ধরেছে তনুখানি। মধুর দুটি বাহুর ঘায় অগাধ জল টুটিয়া যায়, গ্রীবার কাছে নাচিয়া উঠি করিছে কানাকানি। কপোলে তার কিরণ প’ড়ে তুলেছে রাঙা করি। মুখের ছায়া পড়িয়া জলে নিজেরে যেন খুঁজিছে ছলে, জলের’পরে ছড়ায়ে পড়ে আঁচল খসি পড়ি। জলের’পরে এলায়ে দিয়ে আপন রূপখানি শরমহীন আরামসুখে হাসিটি ভাসে মধুর মুখে, বনের ছায়া ধরার চোখে দিয়েছে পাতা টানি। সলিলতলে সোপান-’পরে উদাস বেশবাস

যেদিন আমি হারিয়ে যাব - কাজী নজরুল ইসলাম

যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুঁছবে বুঝবে সেদিন বুঝবে। ছবি আমার বুকে বেধে পাগল হয়ে কেঁদে কেঁদে ফিরবে মরু কানন গিরি সাগর আকাশ বাতাশ চিরি সেদিন আমায় খুজবে বুঝবে সেদিন বুঝবে। স্বপন ভেঙ্গে নিশুত রাতে, জাগবে হঠাৎ চমকে কাহার যেন চেনা ছোয়ায় উঠবে ও-বুক ছমকে- জাগবে হঠাৎ ছমকে, ভাববে বুঝি আমিই এসে বসনু বুকের কোলটি ঘেষে ধরতে গিয়ে দেখবে যখন শুন্য শয্যা মিথ্যা স্বপন বেদনাতে চোখ বুজবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে। গাইতে গিয়ে কন্ঠ ছিড়ে আসবে যখন কান্না বলবে সবাই- সেই যে পথিক তার শোনানো গান না?- আসবে ভেঙ্গে কান্না, পড়বে মন আমার সোহাগ কন্ঠে তোমার কাদবে বেহাগ পড়বে মনে আমার ফাকি অশ্রুহারা কঠিন আখি ঘন ঘন মুছবে, বুঝবে সেদিন বুঝবে। আবার যেদিন শিউলী ফুলে ভরবে তোমার অঙ্গন তুলতে সে ফুল গাথতে মালা, কাপবে তোমারকঙ্কণ কাদবে কুটির অঙ্গন, শিউলী ঢাকা মোর সমাধি পড়বে মনে উঠবে কাদি বুকের জ্বালা করবে মালা চোখের জলে সেদিন বালা মুখের হাসি ঘুচবে বুঝবে সেদিন বুঝবে। আসবে আবার আশিন হাওয়া, শিশির ছেচা রাত্রি থাকবে সবাই- থাকবে না এই মরন পথের যাত্রীই আসবে শিশির রাত্রি, থাকবে পাশে বন্ধু স